মিজানুর রহমান মিজান, বিশ্বম্ভরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রকিনিধিঃ
সারা বিশ্বে যখন ‘কোভিড-১৯’ মোকাবেলায় ব্যস্থ তখন বাংলাদেশ সরকার করোনা সহ দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তার উপর জোর দিতে গিয়ে নানান কর্মকান্ডের ১টি কৈশোর কালীন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করণের উপর সারা দেশে স্বাস্থ্য বিভাগের আওতায় স্বাস্থ্য বিষয়ে ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাকে বাল্য বিবাহমুক্ত উপজেলা হিসেবে ঘোষনা করা হয়, যা বাংলাদেশে অদ্বিতীয়। এরই প্রেক্ষাপটে অত্র উপজেলার কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সচেতনতামূলক ব্যপক কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সরকার ও সহযোগী অঙ্গসংগঠন। এ উপজেলার স্কুল,কলেজ পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে পাঠদানের পাশাপাশি বয়ঃসন্ধিকাল এবং শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনে কৈশোরকালীন যৌন ও প্রজননতন্ত্রের সংক্রমন এবং এইচ.আই.ভি/এইডস,পুষ্টি ও অপুষ্টিজনিত বিষয়ে সম্যক ধারনা ও সহযোগীতার হাত বাড়িয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন অংগসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও কিশোর কিশোরীদের মানসিক পরিবর্তনের জন্য জেন্ডার বৈষম্য ও নির্যাতন রোধে মুক্ত আলোচনা করা হয়। বিষয়ভিত্তিক আলোচনাগুলো সমাজের নেতৃস্থানীয় নেতৃবৃন্দ,প্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের সমন্বয়ে প্রতিটি কিশোর-কিশোরীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। যাতে তারা ভয় বা সামাজিক লজ্জা কাটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এসব বিষয়ের কূফল ও সুফল সম্পর্কে জেনে বুঝে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সামাজিক অবক্ষয় রোধ করতে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তনে গেট কিপার ও কমিউনিটির সহযোগীতা কতটা গুরুত্ববহ তা প্রতিটি অভিভাবককে জানতে হবে,কারন প্রতিটি অভিভাবক একসময় কিশোর-কিশোরী ছিল। কিশোর-কিশোরীগন স্বাচ্ছন্দে-নিঃসংকোচে সেবাপ্রদানকারীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ,সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সম্মানজনক নিরপেক্ষ আচরনের জন্য স্বাস্থ্যগত সমস্যা ছাড়াও মানসিক সমস্যা নিয়ে অবাদে সেবাপ্রদানকারীদের সাথে যেন প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে পারে, সেজন্যই সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে প্রতিবছর দেশব্যাপী বিশেষ বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা হয়ে থাকে।বাল্য বিবাহের প্রধান বাধা হচ্ছে জন্ম নিবন্ধন ও ভোটার আইডি কার্ড তৈরীতে ব্যপক অনিয়ম। জনপ্রতিনিধি,ক্বাজী ও সমাজের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সমন্বয়ে আড়ালে ঘটে যাচ্ছে প্রচুর বাল্য বিবাহ। যার প্রতিরোধ করা সাধারন ব্যক্তিদের পক্ষে সম্ভব নয়। বরং প্রশাসনের চোখের আড়ালে বা রাজনৈতিক ক্ষমতায় ঘটে যাচ্ছে এসব অপরাধ। সরকারের সদিচ্ছা সত্বেও আমাদের সমাজের জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ প্রভাবখাটিয়ে জাল ভোটার আইডি বা জন্ম নিবন্ধন তৈরী করা যেমন অপরাধ অনায়সে করছে, তেমনি দু’টি অপ্রাপ্তবয়স্ক কোমলমতি জীবন ধ্বংশ করার মতো অপরাধ করছে শত শত। সরকারের ঘোষনায় মেয়েদের ১৮ বছরের নিচে ও ছেলেদের ২১ বছরের নিচে বিয়ে দেওয়া ও নেওয়া অপরাধ হলেও প্রাকৃতিক কারনে অনেক কিশোর-কিশোরী দ্রুত যৌবন প্রাপ্ত হলে পিতা-মাতাগন গোপনে বাকদান করে ফেলছেন । এমনকি গোপনে বিয়েও দিয়ে দিচ্ছেন, যদি কোন অঘটন ঘটে যায় এই ভয়ে। বাল্য বিবাহের ফলে দেখা যায়,শতকরা প্রায় ৫০ভাগ কিশোরী অপুষ্টিজনিত রোগে ভোগে, এমনকি মাতৃত্বজনিত নানান রোগ ব্যধি তৈরী হচ্ছে বাল্য বিবাহের ফলে। এমনকি গর্ভজনিত মৃত্যুঝুকিতেও তাদের আশংকা থেকে যায়। দেশের প্রায় শতকরা ৬০ভাগ মেয়েদের বিবাহ হচ্ছে ১৮ বছরের কম বয়সে।কিশোর-কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন অজ্ঞতাবশত নানান অপরাধ হয়ে যায় যা তাদের সারাজীবনের গ্লানি । এ সময়টি কিশোর-কিশোরীদের অপরাধ নির্মূলে ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার চালু করেছে সরকার এবং সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি,অভিভাবক সহ সাংবাদিকদের নিয়ে সদিচ্ছাই তাদের আরোও সতর্ক ও পূর্ণাঙ্গ ধারনা দেওয়া যাবে, যাতে করে তারা তাদের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। দেশের ৪০টি জেলায় বিশেষ ২০টি উপজেলায় সরকারের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার চালু আছে। যার হটলাইন নাম্বার-১০৯২১। এ নাম্বারে যে কেই কৈশোরকালীন সমস্যা,নির্যাতন ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত সেবা নিতে পারবেন। সুস্থ্যভাবে বাঁচতে সঠিক পরিকল্পনা প্রনয়ন করছে সরকার, আমাদের সকলের উচিত সরকারের এ মহৎ উদ্দেশ্যকে স্বাগত জানানো ও সার্বিক সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া, এতেই সম্ভব আধুনিক সমাজ ব্যবস্থা চালুকরণ।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/১৭ জুলাই ২০২০/ইকবাল